স্বপ্ন সত্যি হলো দক্ষিণ আফ্রিকার। ফুরালো প্রায় দুই যুগের অপেক্ষা। ২৭ বছর পর পেল কোনো শিরোপার স্বাদ, দখলে নিলো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। টেম্বা বাভুমারা এখন বলতেই পারেন ‘উই আর চ্যাম্পিয়ন।’
অন্যদিক স্বপ্নভঙ্গের দহনে নীল হলো অস্ট্রেলিয়া। টানা দ্বিতীয় শিরোপার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হোচট খেল তারা। ছাড়তে হলো সিংহাসন। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গেছে ৫ উইকেটে।
জ্যাক ক্যালিস, গ্রায়েম স্মিথ, ডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলারা যা পারেননি, তাই করে দেখালেন টেম্বা বাভুমা। ১৯৯৮ আইসিসি নক-আউট ট্রফির সাথে প্রোটিয়াদের শোকেজে উঠলো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা।
শিরোপার সুবাস আগের দিনেই পেয়ে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা। অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ২৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুক্রবার তৃতীয় দিন শেষ করে ২ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে। আজ চতুর্থ দিনে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬৯ রান।
আগের দিনের দুই থিতু ব্যাটসম্যান এইডেন মার্করাম ও টেম্বা বাভুমা মিলে দিন শুরু করেন। তবে মাত্র ৫ রান যোগ হতেই ফিরতে হয় বাভুমাকে। ভাঙে ১৪৭ রানের জুটি। ১৩৪ বলে ৬৬ করে ফেরেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
এরপর ট্রিস্টান স্টাবসকে নিয়ে আরো ২৪ রান যোগ করেন মার্করাম। স্টাবসকে ৮ রানে থামান স্টার্ক। জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ৪১ রান। ডেভিড বেডিংহামকে নিয়ে সেই লক্ষ্যের খুব কাছে পৌঁছে যান মার্করাম।
তবে জয় নিশ্চিত করে ফিরতে পারেননি, ৬ রান দূরে থাকতে হ্যাজলউডের শিকার হয়ে ফেরেন ২০৭ বলে ১৩৬ রানে। যা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের দ্বিতীয় সর্বোচ ইনিংস। সেরা ট্রাভিস হেডের ১৬৩ রানের ইনিংস।
বাকি কাজটা সারেন বেডিংহাম। কাইল ভেরেইনাকে নিয়ে নোঙর ফেলেন জয়ের বন্দরে। সেই ঘোচান ২৭ বছরের অপেক্ষা। বেডিংহাম ২১ ও ভেরেইনা ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। বল হাতে স্টার্ক নেন ৩ উইকেট।
এর আগে বুধবার শুরু হওয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টসে জেরে আগে ব্যাট করে ২১২ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ওয়েবস্টার ৭২ ও স্টিভেন স্মিথের ৬৬ রান করেন। কাগিজো রাবাদা ৫ ও জানসেন নেন ৩ উইকেট।
জবাবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেভিড বেডিংহামের ৪৫ ও বাভুমার ৩৬ কেবল বলার মতো স্কোর। একাদশের সাতজনই যেতে পারেননি দুই অংকের ঘরে। কানিন্স একাই নেন ৬ উইকেট।
ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ৭৪ রানের লিড পেয়ে যায় অজিরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি তারা। ৭৩ রানে হারিয়ে ফেলে ৭ উইকেট। যদিও নয়ে নামা স্টার্ক ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে মান বাঁচান।
ক্যারি ৪৩ রানে আউট হলেও স্টার্ক অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। তাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৭ রান তুলে অজিরা। লিডসহ তাদের পুঁজি দাঁড়ায় ২৮১ রানে। চ্যাম্পিয়ন হতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে করতে হতো ২৮২।
মার্করামের সেঞ্চুরি ও বাভুমার ফিফটিতে তৃতীয় দিনে ২ উইকেটে ২১৩ রান তুলে যেই কাজ অনেকটা এগিয়ে রেখেছিল প্রোটিয়ারা। আজ শেষ হলো বাকি আনুষ্ঠানিকতা।






