নিজের নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী হাজারো মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি জানান, মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের সাড়া তাকে আশাবাদী করেছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি লেখেন, মানুষের এই আগ্রহ প্রমাণ করে যে দেশের জনগণ নতুন ধারার রাজনীতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত—যেখানে অর্থ-প্রভাব বা শক্তি নয়, সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততাই হবে প্রধান শক্তি। তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম এক হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে টিমে যুক্ত করা হবে এবং ধাপে ধাপে তাদের দায়িত্ব, ভূমিকা ও প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জানানো হবে। পরে এক হাজার করে নতুন ব্যাচ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি জানান, ক্যাম্পেইনের মাঠপর্যায়ের কাজ সবুজবাগ থেকেই শুরু হবে।
জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, মান্ডা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি এই আসনের জন্য দেশের যেকোনো স্থানের মানুষ এবং প্রবাসীদেরও সহযোগিতা চেয়েছেন।
এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে একজন প্রার্থী আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই এই সীমা মানেন না এবং ব্যয়ের প্রকৃত তথ্যও প্রকাশ করেন না। তিনি জানান, তিনি এই প্রচলিত অনিয়ম থেকে দূরে থাকতে চান এবং আইনে অনুমোদিত বাজেটের বাইরে এক টাকা খরচ করতেও রাজি নন।
তার ভাষ্যে, খুব অল্প বাজেটেও নির্বাচন করা সম্ভব—যদি সবকিছু স্বচ্ছভাবে করা যায় এবং জনগণ পাশে দাঁড়ায়। তিনি আরও জানান, প্রাপ্ত অনুদান এবং ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে যে কাজগুলো অন্য প্রার্থীরা অর্থ দিয়ে করান, সেগুলো জনগণের সময়, শ্রম আর অংশগ্রহণ দিয়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখছেন তিনি।
সহযোগিতার উপায় হিসেবে তিনি যেসব ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন—
- গ্রাফিক ডিজাইন
- ভিডিও ধারণ ও সম্পাদনা
- উঠান বৈঠক আয়োজন
- ফান্ডরেইজিংয়ে সহায়তা
- বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা
- এবং আরও নানা ধরনের অংশগ্রহণ
তিনি বলেন, এবারকার নির্বাচনের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দিতে চান তিনি। সৎ, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির একটি উদাহরণ তৈরি করাই তার লক্ষ্য।
তার বিশ্বাস, রাজনীতি যদি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যার বাইরে এসে জনগণের কাছে ফিরে যায়—তাহলে সম্ভাবনা অসীম।
এলএনডি/এমআর






