আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী চূড়ান্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। দলটির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দুই শতাধিক আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০টি আসনে যাচাই-বাছাই চলছে। সমমনা দল ও জোটের জন্য আসন সমন্বয় করার পর বাকি আসনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঢাকা মহানগরের আসনগুলোতেও প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন, ঢাকা-৮ এ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১৩ এ সমমনা দল এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৬ এ উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং ঢাকা-১৭ এ সমমনা দল বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ রবিবার বলেন, মোহাম্মদপুর আসনের জন্য বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, এবং তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় কাজ শুরু করেছেন। আন্দালিব রহমান পার্থ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য না করলেও গুলশানের বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দল থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে তিনি মনোনয়ন পাচ্ছেন, ফলে তারা ইতোমধ্যে তার পক্ষে কাজ শুরু করেছেন।
দলীয় সূত্র মতে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মাঠ পর্যায়ে জরিপ, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই তালিকা অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রস্তুতির নির্দেশ দিচ্ছেন। যেসব আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে, সেসব এলাকায় তিনি সরাসরি প্রার্থীদের সঙ্গে অনলাইনে আলোচনা করছেন এবং সবাইকে নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং সারা দেশে প্রচারণা শুরু করেছে। তারা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ও জুলাই সনদ ইস্যুতে রাজপথে নেমেছে। এ অবস্থায় বিএনপিও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মৌখিকভাবে মাঠে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাঠ জরিপ, তৃণমূলের মতামত এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যারা এগিয়ে থাকবেন, তারাই চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন। তবে এখনও সবকিছু শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
এলএনডি/এমআর






