রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর গুরুতর আহত হয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা জাপা কার্যালয়ের সামনে সমবেত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নুরের ফেসবুক পেজে দাবি করা হয়েছে, ‘ভিপি নুরের রক্তাক্ত চেহারা বলে দেয় পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে লীগাররা বসবাস করছে। জাতীয় পার্টিকে নিরাপত্তা দিয়ে ভিপি নুরকে রক্তাক্ত করেছে এই পুলিশ এই সেনাবাহিনী।’
নুরের ফেসবুক থেকে আসা একাধিক লাইভে দেখা গেছে, মুখ থেকে বুক পর্যন্ত পুরো রক্তাক্ত। ফেটে গেছে নাক। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
একটি সূত্র জানায়, ওই সময় জাপা ও গণ অধিকার পরিষদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে সেনা সদস্যরা এসে জাপার নেতাকর্মীদের সরে যেতে বাধ্য করে। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের স্থান ত্যাগের জন্য ১০ মিনিট সময় দেয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা না সরায় পুলিশ লাঠিচার্জ চালায়। এতে নুরসহ অনেকেই আহত হন।
রাত ১০টার দিকে পল্টন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলতে থাকে, যার ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, তারা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় জাপার কর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়ে উসকানি দেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
গণ অধিকার পরিষদসহ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অভিযোগ করেছে, বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে জাপা সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাপার রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা উচিত।
এলএনডি/এমআর






