প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এবার প্রমাণ করতে চায় যে তারা একটি সঠিক, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে অতীতের সব অভিযোগ ও অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এটি সম্ভব হবে শুধুমাত্র আইনের শাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে।
মঙ্গলবার সকালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সিইসি।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে তিনি সম্প্রতি নিহত ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নাসির উদ্দীন বলেন, আইনের শাসনের প্রকৃত অর্থ আমরা বাস্তবে দেখাতে চাই। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাত চলবে না—আইন সবার জন্য সমান হতে হবে। তিনি বলেন, আপনাদের ওপর বড় ধরনের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই সংকটময় সময়ে যদি আমরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।
পূর্ববর্তী নির্বাচন নিয়ে ওঠা সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে যে নির্বাচন ব্যবস্থা নষ্ট করা হয়েছে কিংবা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখার দায়িত্ব আপনাদের কাঁধেই।
কর্মকর্তাদের সাহস জোগাতে তিনি বলেন, আপনারা যখন দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আইনের পক্ষে থাকবেন, তখন নির্বাচন কমিশনও আরও শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারবে। বিধি ও আইনের আলোকে আপনারা সাহসী সিদ্ধান্ত নিলে কমিশন সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কাউকে সন্তুষ্ট করার প্রয়োজন নেই। আইনের ভিত্তিতেই অধীনস্থদের পরিচালনা করতে হবে। পুরো ব্যবস্থাপনা যেন সঠিকভাবে কাজ করে, তা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিচ্যুতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
এলএনডি/এমআর






