আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনে দেশব্যাপী প্রচারণার উদ্দেশ্যে দশটি ভোটের গাড়ি নিয়ে ‘সুপার ক্যারাভান’ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যারাভানের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে ভোটের গাড়িগুলোর যাত্রা সূচনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই ১০টি ভোটের গাড়ি নিয়ে ‘সুপার ক্যারাভান’ যাত্রা শুরু করেছে। ক্যারাভানটি দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় ঘুরে বেড়িয়ে জনগণের কাছে নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেবে। পাশাপাশি ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং গণতন্ত্রের বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোটাধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণ ঠিক করে দেয় দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, এই সুপার ক্যারাভান কেবল কয়েকটি গাড়ির বহর নয়; এটি গণতন্ত্রের আনন্দবার্তা বহনকারী একটি আন্দোলন। এটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেবে একটি ভোটের গুরুত্ব এবং জানিয়ে দেবে যে, নিষ্ক্রিয়তা নয়—অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
তরুণ সমাজ, নারী ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এগিয়ে আসুন, জানুন, বুঝুন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনাদের সিদ্ধান্তেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের বাংলাদেশ—নতুন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করতে চায় যেখানে থাকবে না ভয় বা বাধা, থাকবে কেবল জনগণের স্বাধীন ও নির্ভীক মতপ্রকাশ। সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। আগামী পাঁচ বছর দেশ কারা পরিচালনা করবে, সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে। নিজের বিবেক ও চিন্তাভাবনা দিয়ে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণকে একটি অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিতে হবে। দীর্ঘ নয় মাস ধরে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণ এই সনদ সমর্থন করলে দেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সনদে সম্মতি থাকলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসুন সবাই মিলে এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করি। নিজের জন্য, দেশের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এবং একটি নতুন পৃথিবীর জন্য ভোট দিই।
এলএনডি/এমআর






