ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে না। আগামী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৫৮৫ সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ফেসবুকে জানানো হয়, শহিদ ওসমান হাদিকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে হিমঘরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। মরদেহ সেখানে রাখার পর সংগঠনের নেতাকর্মীরা শাহবাগে গিয়ে অবস্থান নেবেন।
সংগঠনটি আরও জানায়, পরিবারের অনুরোধে শহিদ ওসমান হাদিকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের কারণে আজকের পরিবর্তে আগামীকাল মিছিলসহ মরদেহ সেন্ট্রাল মসজিদে আনা হবে। ছাত্র-জনতাকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কোনো অপশক্তি অনুপ্রবেশ বা সহিংসতার সুযোগ না পায়।
এছাড়া জানানো হয়, মরদেহ দেখার সুযোগ রাখা হচ্ছে না। সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি শহিদ ওসমান হাদির জন্য দোয়া করার অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে তিনি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ছোড়া গুলি তার মাথায় লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানান। পরে সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এলএনডি/এমআর






