দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা জানিয়েছেন—সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো নিয়ে ভয়ের কিছু নেই, তবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রস্তুতি এখন অত্যন্ত জরুরি।
সোমবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তারা এ অভিমত দেন।
গত শুক্রবার ও শনিবার ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের স্বল্প সময়ে সরকারের করণীয় বিষয়ে লিখিত সুপারিশ দিতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, “আমরা অবৈজ্ঞানিক কিছু করতে চাই না, আবার হাত গুটিয়ে বসেও থাকতে চাই না। আপনাদের পরামর্শ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত।”
তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ কমিটি ও একাধিক টাস্কফোর্স গঠনের কাজ চলছে এবং সুপারিশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ভূমিকম্পে প্রাণহানি যেন আর না ঘটে—এ জন্য আগাম প্রস্তুতির ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভূমিকম্পসংক্রান্ত গুজব ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ কেউ নির্ধারণ করতে পারে না। অতীতের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে সময়সীমা অনুমান করা গেলেও নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব। হাসপাতালের প্রস্তুতি, ভবনের মান, জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা—এসব দ্রুত মূল্যায়নের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বৈঠকে জানান, বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি সংগ্রহ করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভবনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পার্টিশন দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—বিশেষজ্ঞদের লিখিত সুপারিশ পাওয়ার পর দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়েই এ টাস্কফোর্স কাজ করবে।
সভায় বিভিন্ন উপদেষ্টার পাশাপাশি এমআইএসটি, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূতত্ত্ববিদ্যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
এলএনডি/এমআর






