১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, সেই বছরেরই ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধের চার জাতীয় নেতাকে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি এক ভয়াবহ ও কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। বিশিষ্টজনদের ভাষায়— ব্যক্তিকে হত্যা করা গেলেও আদর্শকে হত্যা করা যায় না।
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, অল্প সময়ের মধ্যেই কারাগারের নিরাপদ প্রাচীর ভেদ করে হত্যা করা হয় তার ঘনিষ্ঠ চার রাজনৈতিক সহচরকে— সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর, স্বাধীন বাংলাদেশের নেতৃত্বে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার।
এই সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, এবং খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত এই চার নেতা রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের সেই রাতে তারা কারাগারের ভেতরে নির্মমভাবে খুন হন।
এই দিনটি প্রতি বছর ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
১৯৯৬ সালে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা দীর্ঘ আইনি ধাপ অতিক্রম করে অবশেষে কয়েকজন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি পায়।
এলএনডি/এমআর






