প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছি যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হয়ে উঠবে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—এমন প্রস্তাবও জানিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, বৈঠকে তিনটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন—কিছু সংস্কার কার্যকর করা হবে, বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হবে এবং একটি বিশ্বমানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য কমিশনে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। যদিও কিছু সিদ্ধান্তে মতবিরোধ ছিল, তবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বেশিরভাগ দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তার মতে, “কিছু দল সংস্কার বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। তারা বলছে নির্বাচিত সরকারই করবে। কিন্তু তা হলে গত এক বছরের আলোচনার ফল কী?”
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর যে পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল, তা যেন আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়। অন্যথায় এটি বিশ্বাসঘাতকতা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠক প্রসঙ্গে তাহের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা নীতিগতভাবে একমত হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আছে। বিশেষ করে লন্ডনে গিয়ে তারিখ ঘোষণায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সব দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সেটি হয়নি।”
নির্বাচনী পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে একমত হয়েছে। কেউ উচ্চকক্ষের জন্য প্রস্তাব দিলেও জামায়াত সব আসনেই পিআর পদ্ধতি চায়। গত নির্বাচনের অনিয়ম ও অভিজ্ঞতা থেকে তারা মনে করে নতুন পদ্ধতিতে ভোট আয়োজন জরুরি। এ বিষয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এলএনডি/এমআর






