বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক অনুমতিবিহীনভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার পর থেকে অনেক বিদেশি জরিমানা দিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। বর্তমানে অবৈধভাবে থাকা প্রায় ৭ হাজারের মধ্যে ভারতীয়ই ৫ হাজার। অন্যদিকে বৈধভাবে বসবাস করা প্রায় ৮০ হাজার বিদেশির মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সাড়ে ১৩ হাজারের মতো। এসব ভারতীয় নাগরিক বৈধ-অবৈধ উভয়ভাবেই রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, পোশাক শিল্প, সড়ক উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ নানা খাতে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত জরিমানা বাবদ আদায় হয় ৩৯ লাখ ২ হাজার টাকা, যার মধ্যে আয়কর বাবদ ১০ লাখ এবং অতিবাসজনিত জরিমানা হিসেবে বাকি অর্থ আদায় করা হয়।
একই সময়ে (জানুয়ারি-জুলাই) ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার কারণে ৭৬৭ জন বিদেশি ২১ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা দিয়েছেন। অন্যদিকে আয়কর বাবদ আদায় হয় প্রায় ১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আয়কর জরিমানায় শীর্ষে আছেন চীনা নাগরিকরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ ভারতীয়রা গড়ে আড়াই বছর ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বেশিরভাগ এসেছেন ট্যুরিস্ট বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায়। নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশে ৭ হাজার ৩০৯ জন ভিসামেয়াদোত্তীর্ণ বিদেশি আছেন। এর মধ্যে ভারতীয় ৪ হাজার ৯৯৭ জন, চীনা ৬০৯ জন, নেপালি ৩৭৬ জন, পাকিস্তানি ১৪০ জন, ফিলিপাইনের ১২৭ জন, শ্রীলংকার ১২০ জন এবং অন্যান্য দেশের নাগরিক ৯৪০ জন। বৈধভাবে অবস্থানকারীদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫৩৬ জন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, বিদেশিদের সবসময় নজরদারির চেষ্টা করা হয়। কেউ অপরাধে জড়ালে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নানা কারণে ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় এ নিয়ে আগের মতো কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং নতুন করে অভিযান শুরু হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হলে প্রথম ১৫ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন এক হাজার টাকা, পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত দুই হাজার টাকা এবং ৯০ দিনের বেশি হলে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়ার বিধান আছে। জরিমানা পরিশোধ করলেই দেশত্যাগ করা যায়। তবে যারা বছরের পর বছর জরিমানা ছাড়াই অবস্থান করছেন, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, নাইজেরিয়ার অনেক নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশের পর পাসপোর্ট ধ্বংস করে ফেলেছে। ফলে তারা পুরোপুরি অবৈধভাবে বসবাস করছে। তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি করণীয় নির্ধারণে একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চাইলে সরকার তাদের ট্রাভেল অথরাইজেশনের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠাতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকজন নাইজেরিয়ান জরিমানা মওকুফের আবেদন করেছেন, যা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে ডিবি অনেক আগে থেকেই কাজ করছে। তবে গত বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে যায়। বর্তমানে আবার নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলএনডি/এমআর






