রাজধানীর গণভবনে ১৭.৬৮ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন ৫ আগস্ট হওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জাদুঘরের কিউরেটর তানজিব ওয়াহাব জানিয়েছেন, “নির্ধারিত তারিখে উদ্বোধনের প্রস্তুতি থাকলেও নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।”
শনিবার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকে জানানো হয়, সিভিল ও ইলেকট্রোমেকানিক্যাল (ইএম) কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারায় উদ্বোধন পেছাতে হচ্ছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দেওয়া হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশের মতো।”
জানা গেছে, তেজগাঁওয়ে অবস্থিত গণভবনের ১৭.৬৮ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে লিজ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এই জমিতে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। গত সপ্তাহে তেজগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমির লিজ দলিল সম্পন্ন হয়।
লিজ দলিলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম দাতা এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান গ্রহীতা হিসেবে স্বাক্ষর করেন। দলিল অনুযায়ী, প্লটটি গণভবনের বি সেক্টরে, তেজগাঁও মৌজায়, প্লট নম্বর-০৫, যার আয়তন প্রায় ১৭.৪৬ একর। বরাদ্দকৃত জমির জন্য বছরে তিন হাজার টাকা খাজনা দিতে হবে।
জমিটি বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হলেও এতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ, পরিবর্তন বা হস্তান্তর করতে হলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে।
এদিকে, জাদুঘরের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজ সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর নির্মাণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দ্রুত কাজ শেষ করতে সরকার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ১১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
জানা গেছে, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল (ইএম) কাজের জন্য ৪০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দে দায়িত্ব পেয়েছে ‘শুভ্রা ট্রেডার্স’। অন্যদিকে, স্থাপনা নির্মাণ ও পূর্ত কাজ করছে ‘দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো—২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান, শহীদদের স্মৃতি এবং সে সময়ের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের দলিল সংরক্ষণ করা। গণভবনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অংশকে এই জাদুঘরে রূপান্তর করা হচ্ছে।
সরকার ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এই জাদুঘর গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হয়। শেষ পর্যন্ত ৮ জুলাই অনুমোদন পাওয়ার পর কাজ দ্রুত করতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ গড়ে তোলা হচ্ছে এমনভাবে, যাতে দর্শনার্থীরা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারেন—জুলাই বিপ্লব কেন হয়েছিল, কীভাবে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দুঃশাসন চলেছে এবং সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ কীভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে শহীদদের ব্যবহৃত জামা-কাপড়, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, ঐতিহাসিক সংবাদপত্রের কাটিং, অডিও ও ভিডিও দলিল। থাকছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওচিত্রও। ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রতীকী গণকবর এবং ‘আয়নাঘর’-এর একটি রেপ্লিকাও তৈরি করা হচ্ছে।
প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (ইএম) ড. মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, “সিভিল ও ইএম—দুই ধরনের কাজই সমানতালে এগোচ্ছে। যতটুকু সিভিল কাজ হয়েছে, ততটুকুই ইএম কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কাজের গতি ও অগ্রগতি মোটামুটি সন্তোষজনক।”
এলএনডি/এমআর
……………
For 24/7 Breaking News :
📰 English News : www.libertynewsbd.com
📰 বাংলা সংবাদ : bangla.libertynewsbd.com
📰 Facebook : facebook.com/libertynewsbd
📰 Facebook (বাংলা) : facebook.com/libertynewsbangla
📰 X (Twitter) : x.com/libertynewsbd
📰 Instagram : instagram.com/libertynewsbd
📰 YouTube : youtube.com/@LibertyNewsBD
📰 YouTube : youtube.com/@LibertyNewsPlus






