শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। এটি পেশি গঠন, হাড় মজবুত রাখা, ত্বক ও চুলের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই অনেকেই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বাদাম ও দুগ্ধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত করেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিনের অতিরিক্ত গ্রহণ যেমন উপকারী নয়, তেমনি তা শরীরের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করলে ‘প্রোটিন পয়জনিং’ নামে পরিচিত জটিল অবস্থা তৈরি হয়। সাধারণত শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য এক গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট বলে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে মুড স্যুইং, উদ্বেগ ও অবসাদের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যা মানসিক স্থিতি নষ্ট করে।
শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় কার্বোহাইড্রেটেরও প্রয়োজন রয়েছে। খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে ‘কেটোসিস’ নামের অবস্থা তৈরি হয়, যার ফলে শরীর থেকে দুর্গন্ধ, ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
অধিক প্রোটিন শরীরে ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করতে পারে। এতে হজমের সমস্যা ও পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ঘাটতি দেখা দেয়।
ডিম ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ফ্যাটের কারণে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসকরা তাই পরামর্শ দেন—সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে, নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
এলএনডি/এমআর






