রক্তদানের আগে ও পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সঠিক প্রস্তুতি ও যত্ন না নিলে দাতার শরীরে অস্বস্তি বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিরাপদ ও সফল রক্তদানের জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা উচিত—
রক্তদানের আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:
পর্যাপ্ত ঘুম:
রক্তদানের আগের রাতে অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। ঘুম কম হলে শরীরে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
রক্ত দেওয়ার অন্তত এক দিন আগে থেকে প্রচুর পানি, ফলের রস বা তরল জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
পুষ্টিকর খাবার খান:
রক্তদানের ২-৩ ঘণ্টা আগে হালকা পুষ্টিকর খাবার যেমন—ডিম, দুধ, ব্রেড, ফলমূল ইত্যাদি খাওয়া উচিত। খালি পেটে রক্ত দিলে মাথা ঘোরানো বা দুর্বলতা অনুভব হতে পারে।
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন:
রক্তদানের আগে অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধূমপান বা অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
শরীরের অবস্থা মূল্যায়ন করুন:
ঠান্ডা, জ্বর, ইনফেকশন বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে রক্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পরিচয়পত্র ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সঙ্গে নিন:
রক্তদানের সময় রক্তদাতা কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত। পূর্বে রক্ত দিলে তার তথ্যও জানান।
রক্তদানের পরে যা যা করবেন:
অন্তত ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম নিন:
রক্ত দেওয়ার পরপরই দ্রুত উঠে না দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। এতে মাথা ঘোরা বা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
হালকা খাবার ও পানীয় গ্রহণ করুন:
রক্তদানের পরে শরীর দুর্বল অনুভব করতে পারে। তাই চিনি মিশ্রিত শরবত, বিস্কুট বা ফল খাওয়া জরুরি।
বেশি পানি পান করুন:
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা প্রচুর পানি বা তরল পানীয় পান করা উচিত। এটি শরীরে নতুন রক্ত তৈরি ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন:
রক্তদানের দিন ভারী কাজ, ব্যায়াম বা কায়িক শ্রম পরিহার করা উচিত। শরীর বিশ্রামে রাখলে দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়।
অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
রক্তদানের পর মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা বা দুর্বলতা দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
বিশেষ পরামর্শ:
- প্রতি ৩ মাস অন্তর একবার পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তি রক্ত দিতে পারেন।
- নারীদের ক্ষেত্রে রক্তদান ন্যূনতম ৪ মাসের ব্যবধানে একবার হওয়া উচিত।
- ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী, ন্যূনতম ৫০ কেজি ওজনের সুস্থ ব্যক্তি রক্ত দিতে উপযুক্ত।
রক্তদান জীবন বাঁচায়, কিন্তু দাতার নিজের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত রাখা জরুরি। তাই দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রক্ত দিন, নিরাপদ থাকুন এবং অন্যের জীবন রক্ষা করুন।
এলএনডি/এমআর






