দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একমত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। তুরস্কে পাঁচ দিন ধরে চলা আলোচনার পর অন্তত এক সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ তুরস্ক ও কাতার যৌথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আগামী ৬ নভেম্বর ইস্তানবুলে দুই দেশের প্রতিনিধি দল পুনরায় বৈঠকে বসবে। তার আগে কোনো সংঘর্ষ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই দেশের সরকার।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, “আমরা আশা করছি, আর কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা ঘটবে না। আফগানিস্তানের ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে তালেবান সরকারকে। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান নতুন একটি ফোরামের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ উপস্থাপন করবে। তবে সীমান্ত পুনরায় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।”
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, “তালেবান সরকারের ভারতের প্রক্সি হওয়া উচিত নয়। এমন কোনো জোট কাবুলের সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান তার নীতিগত অবস্থানে অটল রয়েছে এবং আলোচনাগুলো ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশা করছে।
আফগান তালেবান প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বেশির ভাগ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তবে কিছু দাবিতে সময় লাগবে কারণ সেগুলোতে একমত হওয়া কঠিন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং কাবুলের অবস্থান পরিবর্তনের ওপরই আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করছে।
দুই দেশের মধ্যে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর মূল কারণ পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যারা এখনো সক্রিয়।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে—যদিও কাবুল সরকার বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।
গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তান কাবুলে বিমান হামলা চালায়, এর জবাবে ১১ অক্টোবর সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাচৌকি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় আফগান সেনারা। পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংঘর্ষের পর ১৫ অক্টোবর দুই দেশ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সেই সংঘাতে ২০০–এর বেশি আফগান সেনা এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়।
সূত্র: জিও নিউজ
এলএনডি/এমআর






