জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন মানেই নিউইয়র্কে তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ। বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের আনাগোনা, টানা কূটনৈতিক ব্যস্ততা আর সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারণে শহরের অনেক রাস্তাঘাট প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এই সময় সাধারণ নাগরিকদের মতো রাষ্ট্রপ্রধানেরাও আটকে যান যানজটে।
এবার সেই অভিজ্ঞতা হলো ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর। এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন, কারণ আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাড়িবহর। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েনের মাঝেই হালকা রসিকতার আবহ তৈরি করে।
সোমবার, ফরাসি প্রতিনিধিদল নিয়ে রাস্তা পার হতে চাইলেও পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাক্রোঁকে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত প্রেসিডেন্ট, এই মুহূর্তে সবকিছু থেমে আছে, গাড়িবহর আসছে।” জবাবে ম্যাক্রোঁ হাসিমুখে বলেন, “যদি বহরটা এখনো না এসে থাকে, তাহলে আমাকে যেতে দিন। আমি আপনার সঙ্গে দরকষাকষি করছি।”
রাস্তা পার হতে না পেরে ফুটপাতে দাঁড়িয়েই আরও এক ধাপ এগোলেন ম্যাক্রোঁ—ফোন করলেন ট্রাম্পকে। ফোন ধরতেই তিনি রসিকতা করে বললেন, “জানেন, আমি এখন রাস্তায় আটকে আছি, আপনার কারণেই সব বন্ধ।”
ট্রাম্পও অবাক হননি। বরং দুই নেতার মধ্যে প্রাণবন্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ হয়, যেখানে গাজা পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও আলোচনা হয়।
সাধারণত জাতিসংঘ অধিবেশনে শোনা যায় কঠিন ভাষণ বা শক্ত অবস্থান। কিন্তু এই ঘটনাটি দেখালো, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও মাঝে মাঝে হাসি-রসিকতার জায়গা থেকে যায়। নিরাপত্তা কিংবা ট্রাফিকজনিত ভোগান্তি শুধু সাধারণ মানুষের নয়, রাষ্ট্রপ্রধানদেরও।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের এক সহযোগী পরে জানান, আলাপচারিতা ছিল আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। রাজনীতি কখনো কখনো এমন স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তও তৈরি করে।”
জাতিসংঘ অধিবেশনের ভিড়, নিউইয়র্কের বন্ধ রাস্তাঘাট আর দুই প্রেসিডেন্টের হালকা মেজাজ প্রমাণ করলো—কূটনীতির চাপা পরিবেশেও মানবিকতা ও রসিকতার রঙ লেগে থাকে।
সূত্র: রয়টার্স
এলএনডি/এমআর






