মোঃ হারুনুর রশিদ, বগুড়া : বগুড়ার নন্দীগ্রামে জমে উঠেছে সরিষার হাট। নতুন হলেও বিপুল পরিমাণ সরিষা আমদানি হচ্ছে এই হাটে। এবারও সরিষার বাম্পার ফলন ও ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় খুশি নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। নন্দীগ্রাম হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার এখানে সরিষার হাট বসে। বিভিন্ন জাতের সরিষা উঠছে এবং মান ও দাম ভালো হওয়ায় উপজেলার দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা সরিষা ক্রয়-বিক্রয়ে আসছেন।
সরিষার ব্যাপারী রেজাউল করিম বলেন, “অন্যান্য হাটের তুলনায় নন্দীগ্রাম হাটে প্রচুর পরিমাণ সরিষার আমদানি হচ্ছে। হাটটি বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় পরিবহন খরচ কম হয়। মঙ্গলবার হাটে আমি ৬০ মণ সরিষা কিনেছি।”
আরেক ব্যাপারী সাইদুল বলেন, “নন্দীগ্রাম হাটে প্রচুর পরিমাণ সরিষা আসে। আমি সরিষা কিনে মজুত রাখি এবং পরে বিক্রি করি। মঙ্গলবার হাটে ১০০ মণ সরিষা কিনেছি। বর্তমানে সরিষার মানভেদে মণপ্রতি ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।”
সরিষা চাষি বক্কার বলেন, “রবি মৌসুমে সরিষা আবাদ করে কিছু অংশ এখন বিক্রি করব, বাকি অংশ কিছুদিন পর ভালো দামে বিক্রি করব। এ বছর ৮ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষার চাষ করেছি। এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে, বাজারদরও ভালো, তাই আমি খুশি।”
রিধইল গ্রামের রাজু বলেন, “নন্দীগ্রাম সরিষার হাটটি নতুন হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সরিষার জন্য পরিচিতি পেয়েছে। এখানে ভালো মানের সরিষা ওঠে। এছাড়াও উপজেলার রণবাঘা, কুন্দারহাটসহ কয়েকটি হাটে সরিষা পাওয়া যায়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবার নন্দীগ্রামে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। এখন বাজারে সরিষার ভালো দাম থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।”






