দেশের পিঁয়াজের বাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা ও কারসাজি। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতি কেজি পিঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ আগেও মানভেদে কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে খুচরা বাজারে তা পৌঁছেছে ১০০-১১০ টাকায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ঘাটতির চেয়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পরিকল্পিত প্রভাবেই এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে পর্যাপ্ত পিঁয়াজ মজুত রয়েছে, এমনকি চাহিদার চেয়েও উৎপাদন বেশি। তাই এই দাম বৃদ্ধিকে তারা প্রশাসনিক দুর্বলতা ও বাজার মনোপলির ফল বলে মনে করছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টন পিঁয়াজের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। তারপরও বেশি মুনাফার আশায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জমা পড়েছে প্রায় তিন হাজার আমদানি অনুমতির (আইপি) আবেদন, যা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে স্থানীয় কৃষকের স্বার্থে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়া জানান, দেশে পিঁয়াজের ঘাটতি নেই, বরং কিছু ব্যবসায়ী সাময়িক আবহাওয়ার অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে মজুত পিঁয়াজ বাজারে ছাড়লে দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, পাইকারিতে এক পাল্লা (৫ কেজি) পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪২০-৪৫০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৩৩০-৩৫০ টাকার মধ্যে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে বিক্রি করতে।
গৃহিণী নাসরিন জাহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় কিনেছি, আজ ১১০ টাকা নিচ্ছে। প্রতিদিন জিনিসের দাম বাড়লে সংসার চালানো মুশকিল।”
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাবি করছে, আমদানির অনুমতি না পেয়ে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এটি মূলত কৃত্রিম সংকটের অজুহাত।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস মিয়া বলেন, “সরবরাহ কিছুটা কমেছে, আর আমদানি স্থগিত থাকায় বাজারে চাপ পড়েছে।”
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুত করে দাম বাড়াচ্ছেন। এ সিন্ডিকেট বন্ধে সরকারের শক্ত পদক্ষেপ জরুরি।”
এলএনডি/এমআর






