ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও শেয়ারবাজার নিম্নমুখী প্রবণতায় শেষ হয়েছে। ক্রমাগত বিক্রির চাপ ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় বাজারে সতর্কতার ছাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় ইবিএল সিকিউরিটিজ জানায়, ইতিবাচক কোনো প্রভাবক না থাকায় বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নেওয়ার কৌশল অব্যাহত রেখেছেন এবং ঝুঁকিহীন খাতে সরে গেছেন।
প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক সপ্তাহে ৭৩.৯ পয়েন্ট বা ১.৩ শতাংশ কমে ৫,৪৫০ পয়েন্টে নেমে আসে। ব্লু-চিপ শেয়ারসমূহ নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২,১০৭ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচকও ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১,১৭৮ পয়েন্টে স্থির হয়।
বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রমের অন্যতম সূচক লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ৩,৫০৫.৩২ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৫,৭৪৮.৩১ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ কম। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭০১ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে সম্ভাব্য আয় ও লভ্যাংশ প্রত্যাশায় কেনার প্রবণতা থাকলেও সার্বিক বাজারে বিক্রির চাপ ও অংশগ্রহণের ঘাটতিই প্রাধান্য পেয়েছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনে ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস ছিল শীর্ষে (১৩.১ শতাংশ), এরপর প্রকৌশল (১১.৬ শতাংশ) ও ব্যাংক খাত (১০.৯ শতাংশ)। তবে বেশিরভাগ খাতই নেতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের পতন সবচেয়ে বেশি, ৬.৫ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে বাজারে ৩০৬টি কোম্পানির দর কমেছে, ৬৮টির বেড়েছে এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এককভাবে শেয়ারবাজারে এনভয় টেক্সটাইলস ছিল শীর্ষ স্থানীয় দরবৃদ্ধিকারী, যার দর বেড়েছে ১৮.৭ শতাংশ। বিপরীতে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সবচেয়ে বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে, যার শেয়ারমূল্য কমেছে ২৭.৬ শতাংশ।
এলএনডি/এমআর






