সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব, প্রবীণ সাংবাদিক শওকত মাহমুদের পাঁচ দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিনা খন্দকার আন্না আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ডিবি পুলিশ গত ৭ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে শওকত মাহমুদকে আটক করে। পরদিন (৮ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা—ডিবির রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ—দশ দিনের রিমান্ড চান। তবে সেদিন মামলার মূল নথি আদালতে না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে ১১ ডিসেম্বর রিমান্ড শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, শওকত মাহমুদ ও আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এনায়েত করিম চৌধুরীর সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—গোপন বৈঠক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, গণবিক্ষোভ উসকে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিকল্পনার মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা।
এছাড়া দাবি করা হয়, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের পক্ষে রাজনৈতিক বা নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে গোপনে আলোচনা করেছেন কি না—এ বিষয়টি জানার জন্য আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ডিভাইসেও সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য।
শুনানির সময় সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শফিউজ্জামান ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ূম হোসাইন নয়ন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নজরদারিতে ছিলেন। তিনি ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় এসে বিভিন্ন স্থানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন বলে তদন্ত সংস্থার দাবি। ১৩ সেপ্টেম্বর মিন্টো রোডে প্রাডো গাড়ি নিয়ে অবস্থানকালেও পুলিশের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় তাকে আটক করা হয় এবং দুটি আইফোন জব্দ করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা মডেল থানায় মামলা হয় এবং পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশীদও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, শওকত মাহমুদ দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভাইস–চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলএনডি/এমআর






