আশুলিয়ায় শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ‎মামলায় তিনজন রিমান্ডে

Liberty News Desk

আশুলিয়ার গণ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন আসামির ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এর মধ্যে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম তাজ ও শ্রাবণ সাহা উৎসের তিন দিন করে এবং অন্তু দেওয়ানের দুই দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেছেন আদালত। আর দেলোয়ার ভূঁইয়ার রিমান্ড শুনানির তারিখ আগামী রোববার (৭ ডিসেম্বর) নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্তু দেওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থী, বাকিরা ভুক্তভোগীর সহপাঠী।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এই আদেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম সুমন শুরুতে দেলোয়ারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ডের আবেদন করেন এবং অন্য তিন শিক্ষার্থীর সাত দিনের রিমান্ড চান। তবে দেলোয়ার স্বীকারোক্তি দিতে রাজি না হওয়ায় তারও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এইচ কৃষ্ণ শুনানিতে জানান, শুধু ধর্ষণই নয়, ঘটনাটি ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় আসামিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ দিতেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়—“আইন বিভাগের ছাত্র হয়েও এমন অপরাধ করেছে তারা; ভবিষ্যতে আইনজীবী হলে কী করবে? তাই সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।”

অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী রায়হানুর রশীদসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালত রিমান্ড সংক্রান্ত আদেশ প্রদান করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল পিকনিকের কথা বলে ভুক্তভোগীকে সহপাঠীরা আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায়। পথে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মেশানো হলে অচেতন হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীটি। বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরে তিনি নিজেকে ফুলেরটেকের একটি মেসে পান এবং বুঝতে পারেন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। চিৎকার করলে আসামিরা ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ও এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়। এরপর তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মোট ৯৬ হাজার টাকা আদায়ও করে।

৪ নভেম্বর আবারও তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করে আসামিরা। ৬ নভেম্বর অন্তু দেওয়ানের নির্দেশে তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনে চাপ সৃষ্টি করা হয়। রাজি না হলে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল, হাতাহাতি ও টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিষাক্ত পানীয় পান করতে বাধ্য করা হলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনোভাবে ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাকে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেলে ভর্তি করেন এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আসামিরা আরও হুমকি দিতে থাকে। ২৬ নভেম্বর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ সৃষ্টি করা হয়। অবশেষে ২ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীটি আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

এলএনডি/এমআর

……………

For 24/7 Breaking News :

📰 English News : www.libertynewsbd.com
📰 বাংলা সংবাদ : bangla.libertynewsbd.com
📰 Facebook : facebook.com/libertynewsbd
📰 Facebook (বাংলা) : facebook.com/libertynewsbangla
📰 X (Twitter) : x.com/libertynewsbd
📰 Instagram : instagram.com/libertynewsbd
📰 YouTube : youtube.com/@LibertyNewsBD
📰 YouTube : youtube.com/@LibertyNewsPlus

 

শেয়ার করুন