খুলনায় শিশু ফাতিহা (৭), মুস্তাকিম (৮) এবং তাঁদের নানী মহিতুন্নেছা (৫৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, মাত্র এক লাখ টাকার বিনিময়ে এই ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় ১ একর ৬৯ শতক পৈত্রিক জমি নিয়ে শেফার আহমেদ ও তার মামাতো ভাই শামীম আহমেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। শামীম ২০০৩ সালে একটি অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পরে ফ্রান্সে চলে যান। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হন এবং আট মাস আগে জামিনে মুক্তি পান। কারাগারে থাকাকালে তিনি শেফারের পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা তৈরি করেন।
পুলিশ জানায়, কারাগারে পরিচিত এক সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের ভাড়া করে শামীম এক লাখ টাকায় প্রতিপক্ষের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
গত ১৬ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে শামীমের নেতৃত্বে সাতজন লবণচরা এলাকার দরবেশ মোল্লা গলির শেফারের বাড়িতে ঢোকে। দেয়াল টপকে একজন ভেতরে গিয়ে দরজা খুলে দিলে বাকিরা প্রবেশ করে। পরে তারা বাড়ির ভেতরে থাকা তিনজনকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং মরদেহগুলো মুরগির খামারে লুকিয়ে রাখে। এরপর তারা শেফার আহমেদ ও তার স্ত্রীকে হত্যা করার জন্য ওত পেতে ছিল, কিন্তু সুযোগ না পেয়ে পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনার পর থেকে শামীম পলাতক ছিলেন এবং ফ্রান্সে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। ২৭ নভেম্বর ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি হলেন—লবণচরা মোল্লাপাড়ার তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬), যার বিরুদ্ধে মাদক মামলার রেকর্ড রয়েছে এবং জিন্নাহপাড়ার তাফসির হাওলাদার (২০), যার বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের দুটি মামলা আছে।
শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ভাড়াটে সদস্যদের এক লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে লুট হওয়া জমির দলিলপত্র ও স্বর্ণালংকার এখনও উদ্ধার হয়নি। অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এলএনডি/এমআর






