আশুলিয়ায় জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে ফেলা ও সাতজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ (মঙ্গলবার) সাক্ষ্যগ্রহণের ১৪তম দিন নির্ধারিত রয়েছে।
মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ। চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ দুইজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত সোমবার সাক্ষ্য দেন এএসপি এনায়েত এবং শহীদ বায়োজিদ বোস্তামীর ভাই কারিমুল। পরে তাদের জেরা করেন পলাতক আট আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এখন পর্যন্ত এই মামলায় ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সহকারী প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার এবং সাইমুম রেজা তালুকদার।
এর আগে ১৬ অক্টোবর সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের আলোকচিত্র বিশেষজ্ঞ ওমর ফারুক খান ১৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। ১৫ অক্টোবর শেষ হয় মামলার ১১তম দিনের সাক্ষ্য ও জেরা। ৯ অক্টোবর দশম দিনে শহীদ ওমর ফারুকের বাবা চান মিয়া জবানবন্দি দেন, যিনি ১৪তম সাক্ষী ছিলেন।
৮ অক্টোবর নবম দিনের শুনানিতে এএসআই মনিরুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন এবং জব্দ তালিকার বিষয়ে তথ্য দেন। তার আগের দিন ৭ অক্টোবর কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনে স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম অনিকের জেরা সম্পন্ন হয়।
১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন। এর আগে ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা আদালত গ্রহণ করে।
গ্রেফতার হওয়া আট আসামি হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। অন্যদিকে, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনো পলাতক।
গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয় প্রসিকিউশন, যেখানে যুক্ত করা হয় ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠা দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। এরপর তাদের লাশ ভ্যানে তুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। একজন তখনও জীবিত ছিলেন, কিন্তু তাকেও পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
এলএনডি/এমআর






