বগুড়ায় অনুমোদনহীন সিসা কারখানা : ধোঁয়া-অ্যাসিডে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

Liberty News Desk

মো.হারুনুর রশিদ,বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অনুমোদনহীন একটি কারখানায় পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হচ্ছে। এতে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও অ্যাসিডের গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও প্রশাসনের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

সারিয়াকান্দির জামথল-মাদারগঞ্জ ঘাট এলাকার পাচবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত এই কারখানার কারণে দিনভর অ্যাসিডের উৎকট গন্ধ ছড়ায়, আর রাতে কালো ধোঁয়া চারপাশ ছেয়ে যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “মাদারগঞ্জ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন। এখানে বাতাসে অ্যাসিড ও ধোঁয়ার এমন উৎকট গন্ধ যে, শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে উঠেছে।”

কীভাবে তৈরি হচ্ছে সিসা?

কারখানার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে আনা পুরোনো ব্যাটারি ও সিসাভর্তি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। শ্রমিকরা ব্যাটারি খুলে প্লেট বের করছেন, অ্যাসিড সংগ্রহ করছেন।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলায় ব্যাটারি কাটা ও অ্যাসিড সংরক্ষণের কাজ হয়। আর রাত ১০টার পর ব্যাটারির প্লেট ও আনুষঙ্গিক উপাদান পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়। এক টন ব্যাটারি থেকে ৬০০ থেকে ৬৫০ কেজি সিসা পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন কারখানায় বিক্রি করা হয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক

সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ব্যাটারির বর্জ্য পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা শ্বাসকষ্ট, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং এমনকি ক্যানসারের কারণও হতে পারে।”

কে এই কারখানার মালিক?

স্থানীয়দের দাবি, কারখানার মালিক মহিদুল ইসলাম, যিনি সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে তিনি জানান, মোস্তাক খান নামে এক ব্যক্তির কাছে মাসে ৩০ হাজার টাকায় জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন।

কারখানার প্রকৃত মালিক হিসেবে যুবদল নেতা মোস্তাক খানের নাম উঠে এলেও তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ফোন ধরেননি এবং অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিবেদককে আজ নিউজ না করার অনুরোধ জানানো হয়।

প্রশাসন কী বলছে?

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহারিয়ার রহমান বলেন, “এটা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়েছি, তবে কাউকে পাইনি। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

বগুড়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহাদীর বিন মোহাম্মদ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন জানার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

অননুমোদিত সিসা কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও অ্যাসিডের কারণে এলাকাবাসী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এর ভয়াবহ প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন