সারিয়াকান্দিতে জমির মালিকানা নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

Liberty News Desk
ফাইল ছবি

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একটি জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কৃষক মো. মুকুল ব্যাপারী গত বছর ১২টি আম ও কাঁঠালের গাছ লাগিয়েছিলেন। গত শুক্রবার রাতে প্রতিপক্ষ সেই গাছগুলো কেটে ফেলে। গাছ কাটার বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শাসিয়ে বলেন, উক্ত জমি তারা দখলে নেবেন।

এদিকে, স্বপন নামে এক জামায়াত নেতা কৃষক মুকুল ব্যাপারীর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ করেন।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক মুকুল ব্যাপারী তার পিতার নামে ৪৮ শতক জমিতে ছয় মাস আগে ১২টি আম ও কাঁঠালের গাছ লাগিয়েছিলেন। সময়ের সাথে সাথে গাছগুলো বড় হয়ে উঠছিল। তার জমির মাঝখান দিয়ে বাঁধের রাস্তা গেছে। এক পাশে তিনি বসবাস করেন, অন্য পাশে ফাঁকা জায়গায় গাছগুলো লাগানো হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকার মো. জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি দখল করার উদ্দেশ্যে গাছগুলো কেটে ফেলেন।

মুকুল ব্যাপারী বলেন, “আমার বাড়ির রাস্তার অপর পাশে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৪৮ শতক জমিতে গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। ভাবছিলাম, ফল ধরলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাব। কিন্তু সে আশা পূরণ হলো না। এর আগেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহিদুল ইসলাম, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, উপজেলা জামায়াত নেতা স্বপন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফিরোজ, রুবেল, নান্টু, আশরাফ আলী গাছগুলো কেটে ফেলে জায়গাটি দখল করার চেষ্টা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “উল্লেখিত ব্যক্তিরা জমিটি মাদ্রাসার বলে দাবি করছেন। এর আগেও আমি থানায় অভিযোগ করেছিলাম, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। মাদ্রাসার পক্ষে যদি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে, তাহলে আমি জমি ছেড়ে দেব। কিন্তু গাছগুলো কেন কাটা হলো? গাছের কী দোষ ছিল? এখন আমি আতঙ্কে আছি, কখন কী হয় জানি না।”

অন্যদিকে, জামায়াত নেতা স্বপন মুঠোফোনে বলেন, “জমিটি মাদ্রাসার নামে নিবন্ধিত এবং স্থানীয়দের নিয়ে একটি মাদ্রাসা কমিটিও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহিদুল ইসলাম জায়গাটি ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন সময় টাকা নিতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে, আমি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নিই যে যেহেতু এটি মাদ্রাসার নামে, সুতরাং এখানকার সবকিছু মাদ্রাসার জন্যই থাকবে। তবে গাছ কাটার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। জমিটি মুকুল ব্যাপারীর নয়, এটি সম্পূর্ণ খাস জমি। অবৈধভাবে দখলে রাখার জন্য তিনি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।”

একই দিনে স্বপন সারিয়াকান্দি থানায় উপস্থিত হয়ে পাল্টা মানহানির অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামলার বিবাদীরা হলেন— মো. মুকুল ব্যাপারী, মোছা. রওশনারা বেগম, মো. আ. মাজেদ (লিটন), মো. মাসুদ মিয়া, মো. সহিদুল ব্যাপারী। অভিযোগে বলা হয়, তারা স্বপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিহিংসাপূর্ণ ও মিথ্যা মন্তব্য ছড়াচ্ছেন।

স্বপন বলেন, “লোকসমাগমে বলা হচ্ছে, আমি নাকি তাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলেছি, প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছি এবং ঘুষ নিয়ে বিভিন্ন কাজ করছি। এতে আমার মান-সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি লোকসমাগমে চলাফেরা করতে পারছি না। আমার ২৫ লাখ টাকার মানহানি হয়েছে বলে মনে করি।”

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, “মুকুল ব্যাপারীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জামায়াত নেতা স্বপনের মানহানির অভিযোগও পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ার করুন