আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন ও বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) চারটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
সোমবার সকালে কয়েক ঘণ্টা ধরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ২২ অক্টোবর হঠাৎ করেই গোল্ডটেক্স লিমিটেড, গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস, সাউথ চায়না ব্লিচিং অ্যান্ড ডায়িং ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং এ্যাকটর স্পোর্টিং লিমিটেড কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধের আগেই তিন মাসের বেতন বকেয়া ছিল। একাধিকবার আশ্বাস দেওয়ার পরও বেতন না পেয়ে সোমবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা ডিইপিজেডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “শ্রমিকদের শান্তভাবে সরানোর চেষ্টা করলে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”
ডিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “চারটি কারখানার মধ্যে তিনটির আড়াই মাসের এবং একটির দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মালিকপক্ষ ব্যাংকের সহায়তা নিয়ে কারখানাগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে। যদি তারা ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
বিক্ষোভের সময় মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
এক শ্রমিক বলেন, “আমরা কোনো সংঘর্ষ চাই না—শুধু আমাদের বকেয়া বেতন ও কাজের জায়গাটা ফেরত চাই। আমরা কাজ করতে চাই, সাহায্য নয়।”
স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন, বারবার আশ্বাস দিয়েও বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকদের ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
এলএনডি/এমআর






