তারিক লিটু, ঢাকাঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত এক পথচারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন ছাত্রদল নেতারা। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়। আহত ব্যক্তির নাম আলমগীর হোসেন (৩৮)। তিনি এলাকার স্থানীয় দোকান থেকে বাজার করে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
চোখের সামনে ঘটনার বিবরণ দেওয়া স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি কুকুর আলমগীর হোসেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি প্রাণপণে বাঁচার চেষ্টা করেন। তবুও তার হাতে ও পায়ে একাধিক স্থানে কামড়ের চিহ্ন তৈরি হয়। আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যাওয়ায় আশপাশের মানুষ দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
এ সময় ঘটনাস্থলের কাছেই অবস্থান করছিলেন বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদল নেতা ডা. রাসেল হোসেন। তিনি দ্রুত স্থানীয়দের সঙ্গে এগিয়ে এসে আহত আলমগীরকে নিজ হাতে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ডা. মীর সোহান এবং ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ডা. কাজী তৌকির মাহমুদ।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা আহত আলমগীরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে র্যাবিস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দেওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণ রোধে জরুরি ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
ডা. রাসেল হোসেন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাই। কারণ কুকুরের কামড়ের পর যত দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়া যায়, তত ঝুঁকি কমে যায়। আমরা ওষুধ কেনার ব্যবস্থা করেছি যাতে আহত ব্যক্তির পরিবারের ওপর চাপ না পড়ে।”
আহত আলমগীরের ভাই মো. সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, “হঠাৎ ঘটনার পর আমরা কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এই ছেলেরা না থাকলে আমার ভাই হয়তো আরও বিপদে পড়ত। তারা শুধু হাসপাতালে নেয়নি, ওষুধও কিনে দিয়েছে। আমরা কৃতজ্ঞ।”
স্থানীয়রা জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় অনেক দিন ধরে রাস্তার কুকুরের উপদ্রব বাড়ছে। রাত-বিরাতে বা ভোরে চলাচলের সময় হঠাৎ আক্রমণের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। এর আগেও কয়েকজনকে কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর এলাকাবাসীর দাবি, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, টিকা প্রদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
এলএনডি/এমআর






