আব্দুল মোমিন, বগুড়া : বগুড়ার বেদগাড়ী এলাকার এক তরুণ, মোঃ খায়রুল ইসলাম খোকন। পেশায় সিএনজি চালক হলেও, পরিচয়ে তিনি একজন কলেজ ছাত্র—সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরেছেন সিএনজি চালিয়ে। বাবার মৃত্যুর পর নিজের খরচ আর এক বোনের বিয়ের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লড়াই করে চলেছেন খোকন। আর সেই খোকন এখন সততার প্রতীক হয়ে উঠেছেন পুরো বগুড়ায়।
ঘটনাটি ঘটে ২৯ মার্চ। খায়রুলের সিএনজিতে ওঠেন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. শাহিন। ব্যবসার কাজে বগুড়ায় এসে ১৮ ভরি স্বর্ণ কেনেন তিনি। সেই স্বর্ণ এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা একটি কালো ব্যাগে করে সঙ্গে আনেন। বনানী এলাকায় একটি বাস দেখে তাড়াহুড়ো করে উঠে যান বাসে, রেখে যান ব্যাগটি খায়রুলের সিএনজিতেই।

পরিস্থিতি বুঝে দিশেহারা হয়ে পড়েন শাহিন। কিন্তু এ গল্পে মোড় নেয় অন্যদিকে—কারণ সিএনজিচালক খায়রুল ব্যাগটি পেয়ে নিজের মাকে জানান। মায়ের পরামর্শে গোপনে খোঁজ করতে থাকেন প্রকৃত মালিকের। পরিচিত ট্রাফিক সার্জেন্টের সহায়তায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
৪ এপ্রিল, শুক্রবার সদর থানা ও শাজাহানপুর থানার সহযোগিতায়, ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের উপস্থিতিতে খায়রুল ইসলাম খোকন সেই কালো ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেন প্রকৃত মালিকের হাতে। ব্যাগে থাকা ১৮ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকাই ছিল সুরক্ষিত।
ব্যাগ ফিরে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মো. শাহিন। বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সব হারিয়ে ফেলেছি। খায়রুলের সততা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ওর মতো মানুষ থাকলে সমাজের কোনো ভয় নেই।”
সদর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীনও প্রশংসা করেছেন খোকনের সততা ও মানবিকতাকে। বলেন, “খায়রুলের মতো শিক্ষার্থীরা সমাজের জন্য আশার আলো। তার সততা ও দায়িত্ববোধ প্রমাণ করে, এখনও আমাদের চারপাশে ভালো মানুষ আছে। এমন তরুণরা থাকলে সমাজ বদলাবেই।”
খোকনের এই মহৎ কাজে মুগ্ধ বগুড়াবাসী। তিনি শুধু হারানো স্বর্ণই ফিরিয়ে দেননি, ফিরিয়ে দিয়েছেন সমাজের প্রতি একখণ্ড বিশ্বাস, নৈতিকতা আর মানবিকতার গল্প।
এলএনডি/এনই






