দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে একযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ফটকে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। ক্যাম্পাসজুড়ে প্রায় দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবির সাতটি প্লাটুন, র্যাব এবং সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বহিরাগতদের প্রবেশে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের সঙ্গে বডি-ওন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, অন্যান্য ফটকের তুলনায় গেরুয়া ফটক দিয়ে বহিরাগতদের প্রবেশের চেষ্টা বেশি হয়, তাই সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৭ জন। বিভিন্ন পদে চূড়ান্তভাবে লড়ছেন ১৭৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন, যুগ্ম সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে থাকা বুথগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন ৬৭ জন রিটার্নিং অফিসার (শিক্ষক), সমানসংখ্যক পোলিং অফিসার এবং সহকারী কর্মকর্তারা।
প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নারী। তবে ভিপি পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই। জিএস পদে ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন নারী। কয়েকটি পদের জন্য একেবারেই নারী প্রার্থী পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট আটটি প্যানেল— ছাত্রদল, শিবির, বাম সংগঠন, স্বতন্ত্র এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল জোট। আলোচনায় আছেন ভিপি পদে আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল, আবদুর রশিদ জিতু, শেখ সাদী হাসান ও আরিফ উল্লাহ। অন্যদিকে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন মাজহারুল ইসলাম, তানজিলা হোসেন বৈশাখী এবং তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম।
ভোট শেষে বিশেষ ওএমআর মেশিনে গণনা করা হবে। ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে বড় স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হবে এবং প্রতি ঘণ্টায় আপডেট জানানো হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও জনসংযোগ দপ্তরের ফেসবুক পেজেও ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
এলএনডি/এমআর






