সজিবুর রহমান, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও শেখ রেহেনা হলের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অল্প বৃষ্টিতেই এ সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। জমে থাকা পানিতে কাদা ও আবর্জনা মিশে থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। হলমুখী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র পথ হওয়ায় বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ব্যস্ত এ সড়কে দিন-রাত শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করেন। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ঘটনার আতঙ্কে ভুগছেন। রাতে জমে থাকা পানিতে গর্ত ঢেকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
বর্ষাকালে সমস্যাটি ভয়াবহ রূপ নেয়। সামান্য বৃষ্টিতে যেখানে প্লাবিত হয়ে যায়, সেখানে কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলে সড়কটি কার্যত খালে পরিণত হয়। শুধু শিক্ষার্থী নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরাও একই দুর্ভোগে পড়েন। কারন মেয়েদের হলের পিছনেই রয়েছে শিক্ষকদের আবাসস্থল।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সমাধান পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বারবার অভিযোগ জানিয়েও মিলছে না প্রতিকার।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হয় না। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা প্লাবিত হয়ে যায়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শেখ রেহেনা হলের প্রভোস্ট রেহেনা পারভীন মালা বলেন, কাজটি ভার্সিটির সেন্ট্রালি, আমাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু বাজেট না থাকায় কাজ হচ্ছে না। সেদিন ভিসি স্যারও এসেও নিজে দেখে গেছেন রাস্তাটি। প্রকৌশল দপ্তর থেকে লোক এসে দেখে গেছে। আশা করি দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, অনুমোদন পেলেই আমরা রাস্তার কাজটি দ্রুত শুরু করতে পারবো।
এদিকে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এই জলাবদ্ধতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুর্বলতাকেও স্পষ্ট করে তুলছে বলে মনে করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এলএনডি/এমআর






