আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে, বলেছিলেন হাদি

Liberty News Desk
ছবি : সংগৃহীত

“মৃত্যুর ফয়সালা জমিনে না, আসমানে হয়। আমি চলে গেলে আমার সন্তান লড়বে, তার সন্তান লড়বে।”—চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর এভাবেই নিজের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন শরিফ ওসমান হাদি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এই অগ্রসৈনিক গত শুক্রবার রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাদি তার বলিষ্ঠ ও আবেগঘন বক্তৃতার জন্য ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তার আলোচিত বক্তব্যগুলোর একটি ছিল—“যুগ থেকে যুগান্তরে আজাদির সন্তানেরা স্বাধীনতার পতাকা বহন করবেই। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। আমরা শাহাদাতের জন্যই জন্মেছি।”

অনুসারীদের কাছে সাহসী ও আপসহীন নেতা হিসেবে পরিচিত হাদি ছিলেন আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছে বিতর্কিত চরিত্র। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি রাজনীতির মাঠে আলোচিত এক নাম হয়ে ওঠেন।

শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি জনপরিসর থেকে সরে যাননি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয় এবং রাজপথের আন্দোলনে তার সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠিত হলেও সেখানে যোগ দেননি।

অভ্যুত্থানের পর হাদি নিজ উদ্যোগে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, জুলাইয়ের হামলাকারীদের বিচার এবং অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার দাবিতে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ ও অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচির অগ্রভাগে ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি।

সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন ছিল ইনকিলাব মঞ্চের মূল লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হাদি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর মন্তব্য করেছিলেন, “এই রায় বিশ্বব্যাপী একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

গত জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি যদি পুরোনো ধাঁচের রাজনীতিতে ফিরে ক্ষমতায় আসে, তাহলে দুই বছরের বেশি টিকতে পারবে না। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা ও দৃশ্যমান সংস্কারের ঘাটতি তুলে ধরে একটি জাতীয় সরকারের প্রস্তাবও দেন।

লেখালেখির ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন হাদি। তিনি ‘সীমান্ত শরিফ’ নামে লেখালেখি করতেন। তার প্রকাশিত কবিতার বই ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’। তিনি সাইফুরস কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ছিলেন এবং সাইফুরস প্রকাশনী থেকে তার একটি ইংরেজি ভাষার বইও প্রকাশিত হয়।

চলতি বছর এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার পর তার দেওয়া কড়া বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরে তিনি বলেন, “এগুলো গালি নয়, মুক্তির মহাকাব্য”—এবং একই সঙ্গে দুঃখ প্রকাশও করেন।

গত নভেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদি জানান, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তিনি হত্যার হুমকি পেয়েছেন। তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের উগ্র সমর্থকরা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে। জীবননাশের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি ন্যায়ের লড়াই থেকে সরে যাবেন না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এলএনডি/এমআর

……………

For 24/7 Breaking News :

📰 English News : www.libertynewsbd.com
📰 বাংলা সংবাদ : bangla.libertynewsbd.com
📰 Facebook : facebook.com/libertynewsbd
📰 Facebook (বাংলা) : facebook.com/libertynewsbangla
📰 X (Twitter) : x.com/libertynewsbd
📰 Instagram : instagram.com/libertynewsbd
📰 YouTube : youtube.com/@LibertyNewsBD
📰 YouTube : youtube.com/@LibertyNewsPlus

 

শেয়ার করুন