বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এটিকে উগ্র ধর্মান্ধতার প্রকাশ বলে উল্লেখ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি করেন।
বুধবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ এই বাউলরা মাঠে-ঘাটে গান ছড়িয়ে দেন, আর তাদের ওপর হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজধানীর বৃহত্তম বস্তিগুলোর একটি কড়াইলে হাজারো দরিদ্র মানুষ বসবাস করেন। তাদের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। তিনি জানান, তার বাসার গৃহকর্মীর বাড়িটিও পুড়ে গেছে, যা তাকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি এবং আইনের প্রয়োগের অভাবকে দায়ী করে ফখরুল বলেন, গার্মেন্টস কিংবা বিভিন্ন কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানা না হলে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটে। যথাযথ আইন প্রয়োগ ও অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ঝুঁকি অনেক কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। কেউ দায়ী থাকলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনের শুরুতে তিনি দলীয় নেতাকর্মী এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময়, গোয়ালপাড়া কওমি মাদরাসা পরিদর্শন এবং একটি জাতীয় দৈনিকের সুধী সমাবেশে অংশ নেন।
এলএনডি/এমআর






