কী ঘটেছিল থালাপতির সমাবেশে, এত মানুষ হতাহতের নেপথ্যে কী?

Liberty News Desk
সংগৃহীত ছবি

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কারুর জেলায় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন নারী ও ১০টি শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন।

শনিবার সন্ধ্যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বিজয়ের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ ভিড় সামলাতে না পেরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে অনেকেই মাটিতে পড়ে যান এবং পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজয়ের আগমনের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ ভিড় জমে ছিল সমাবেশস্থলে। প্রচণ্ড গরম ও অক্সিজেনের ঘাটতিতে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিজয় মঞ্চে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষ একনজর দেখতে ব্যারিকেডের দিকে ছুটে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন বিজয় বক্তৃতা থামিয়ে দেন এবং উপস্থিত জনতার দিকে পানির বোতল ছুড়ে সহায়তা করার চেষ্টা করেন।

পুলিশ জানায়, বিজয়ের এ রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল আগেই ঘোষিত। তিনি নামাক্কালে এক সমাবেশ শেষে কারুরে এ সমাবেশের ঘোষণা দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বিজয় স্থানে পৌঁছান। এর মধ্যে অপেক্ষমাণ জনতার মধ্যে উত্তেজনা ও ক্লান্তি চরমে ওঠে।

প্রাথমিকভাবে বিজয়ের দল লাইটহাউস চত্বরে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু আগের দুটি সমাবেশে বিপুল ভিড়ের অভিজ্ঞতার কারণে প্রশাসন ওই স্থানে অনুমতি না দিয়ে অন্যত্র আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছিল। যদিও আয়োজকরা ধারণা করেছিলেন, প্রায় ১০ হাজার মানুষ আসবেন, কিন্তু উপস্থিতি ছাড়িয়ে যায় ২৭ হাজারেরও বেশি।

তামিলনাড়ু পুলিশের মহাপরিচালক জি. ভেঙ্কাটরামন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত অনুমতি দিয়েছিলাম। বিজয়ের দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আসার কথা থাকলেও তিনি আসেন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা জনতার অনেকের কাছে পানি বা খাবার ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কাউকে দায়ী করছি না, তবে অতিরিক্ত ভিড়ই দুর্ঘটনার কারণ।”

এ ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন এক শোকবার্তায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১০ লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ১ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাটিকে “অত্যন্ত বেদনাদায়ক” বলে অভিহিত করেছেন।

সমাবেশস্থল ত্যাগের পর বিজয় সরাসরি ট্রিছি বিমানবন্দরে গিয়ে চেন্নাইগামী বিমানে ওঠেন। সেখানে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, “এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। কারুরে প্রাণ হারানো প্রিয় ভাইবোনদের পরিবারের প্রতি রইল আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

সূত্র: এনডিটিভি

এলএনডি/এমআর

……………

For 24/7 Breaking News :

📰 English News : www.libertynewsbd.com
📰 বাংলা সংবাদ : bangla.libertynewsbd.com
📰 Facebook : facebook.com/libertynewsbd
📰 Facebook (বাংলা) : facebook.com/libertynewsbangla
📰 X (Twitter) : x.com/libertynewsbd
📰 Instagram : instagram.com/libertynewsbd
📰 YouTube : youtube.com/@LibertyNewsBD
📰 YouTube : youtube.com/@LibertyNewsPlus

 

TAGGED:
শেয়ার করুন