ঢাকার দুটি থানায় দায়ের হওয়া নাশকতার মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ মোট ১০৬ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার হাকিম ও জজ আদালতের দুই বিচারক এই আদেশ দেন বলে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ নিশ্চিত করেছেন।
এর মধ্যে ২০১৯ সালে শাহবাগ থানায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ৭৭ জনকে অব্যাহতি দেন।
অব্যাহতি পাওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাইফুল আলম নীরব ও সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির আগে দিন অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর শাহবাগ থানাধীন বার কাউন্সিলের নির্মাণাধীন প্রধান ফটকের সামনে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। অভিযোগ ছিল, জামিন শুনানির রায়কে প্রভাবিত করা ও বিচার বিভাগকে চাপের মুখে ফেলার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়। শাহবাগ থানার এসআই শামছুর রহমান মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ মে পুলিশ ৭৭ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সোমবার আদালত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতি দেয়।
এছাড়া রমনা থানায় দায়ের হওয়া আরেক মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ ২৯ জন নেতাকর্মীকে অব্যাহতি দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম ওয়াহিদুজ্জামান। আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ ও জাকির হোসেন জুয়েল অব্যাহতির আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এই মামলার অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের মধ্যে আরও আছেন— বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, মীর সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ও যুবদল নেতা হামিদুর রহমান হামিদ।
নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২ মার্চ রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সেসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রমনা থানার এসআই আশফাক রাজীব হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আসামিপক্ষ অভিযোগপত্রে আপত্তি জানিয়ে অব্যাহতির আবেদন করে, যা আদালত মঞ্জুর করে।
এলএনডি/এমআর






