ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনের শোভাযাত্রা চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়, টিএসসি, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি, টিএসসি হয়ে পুনরায় চারুকলা এগিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রা পুরো রুট নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। পাশ থেকে বিকল্প পথে শোভাযাত্রায় প্রবেশ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, শোভাযাত্রায় যারা প্রবেশ করতে চান তাদের সুবিধার্থে আমরা একটি ম্যাপ তৈরি করেছি। শোভাযাত্রা মাথা থাকবে চারুকলার সামনে আর শোভাযাত্রার লেজ থাকবে ঢাবির ভিসির বাসভবনের সামনে। এর বাইরে মাঝখান দিয়ে কোনোভাবেই প্রবেশের সুযোগ নেই।
রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রমনা বটমূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের শেষে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ডিএমপির নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হবে। বাঙালির প্রাণের নববর্ষের উৎসবের টানে নগরবাসী সমবেত হবে রমনা পার্কে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, জাতীয় সংসদ ভবন রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিল এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে।
এক কথায় পুরো ঢাকা নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুত। উল্লিখিত এলাকা ছাড়াও ঢাকার অধিকাংশ স্থানে নববর্ষের উৎসব উদযাপিত হবে। এ উৎসব মুখর অনুষ্ঠানে যাতে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে পারে তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কমিশনার বলেন, নববর্ষ উদযাপনে নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই। ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য এই পয়লা বৈশাখ কেন্দ্রিক নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত থাকবে। সঙ্গে র্যাব আছে, বাংলাদেশ আর্মি, এন্টি টেরোরিজম ইউনিট থাকবে। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের সহযোগিতা করবে। এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। আশা করছি আমরা সঠিকভাবে নিরাপত্তা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সহযোগিতা করব এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।
বাংলা বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরকে ২১টি সেক্টরে ভাগ করে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হবে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাস্থল ডগ স্কোয়াড দ্বারা সুইপিং করা হবে। রমনা পার্ক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ মোট ২১টি স্থানে ব্যারিকেট থাকবে।
প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের মুখে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল দিয়ে তল্লাশি করা হবে। অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়া ও শোভাযাত্রার রোডগুলোতে সিসি ক্যামেরাসহ স্থির ও ভিডিও ক্যামেরা দ্বারা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
অনুষ্ঠানের চারপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফুট পেট্রোল থাকবে। সিটিটিসি, সোয়াট ছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।






