রমজান আলী, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল ইনজেকশন পুশের অভিযোগে শাহরিয়ার মাহমুদ আবির (২৮) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছেন এবং হাসপাতালটি বন্ধ ও দায়ী চিকিৎসকের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা বসুরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে পেটে ব্যথা, জ্বর ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে আবির বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলায়েত হোসেন মামুন তাকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবির বসুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সানাউল্লাহ বাহারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আবুধাবিতে ব্যবসা করছিলেন। ছোট ভাই ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আবির দেশে ফেরেন। কিছুক্ষণ পরই তার শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পরই আবিরের শরীরে জ্বালাপোড়া, চোখ-মুখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পেশার একেবারে কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
ইমন আরও বলেন, “ঢাকার বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকরা আমাদের জানান, ইনজেকশনটি ভুলভাবে পুশ করায় তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা দায়ী চিকিৎসকের শাস্তি ও হাসপাতাল বন্ধের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালের এমডি ও নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজের বক্ষব্যাধি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ. ফ. ম. আব্দুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রোগী যখন আসেন, তখনই তার পেশার ছিল অত্যন্ত নিচে। আমাদের চিকিৎসক স্যালাইন ও ইনজেকশন দিয়ে তাকে ভর্তি করেন। রোগীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে স্বজনরা তাকে ফেনীতে নিয়ে যান।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় ডেঙ্গু শক থেকেও এমনটা হতে পারে। রোগীর মামাও একজন স্থানীয় চিকিৎসক। তিনিও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, “নিহতের স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






